“দ্বীনি শিক্ষা বনাম জাগতিক শিক্ষা”

Mar 29, 2019
1079 Views

যতটুকু জ্ঞান অর্জন করেছি, ততটুকু দিয়ে আমার মতামত প্রকাশ করেছি। ভুল-ত্রুটি থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। পরামর্শ থাকলে জানাবেন।

“মুমিনদের প্রত্যেক দল হতে তাদের এক অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা তাফাক্কুহ ফিদ্দীন (দ্বীনের গভীর জ্ঞান) অর্জন করতে পারে এবং যাতে তাদের সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পারে যখন তারা তাদের নিকট ফিরে আসবে-যাতে তারা সতর্কতা অবলম্বন করে।”-সূরা তাওবা : ১২২

এই আয়াতটি আমাদের ধর্মগুরুদের জন্য। অর্থ্যাৎ, সমুদয় জাতিকে বিপদগামী পথ হতে রক্ষা করে ইসলামী নিয়ম কানুন, বিধিবিধান পালনে সহযোগিতা করবে। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ইরশাদ করেন, “প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উপর জ্ঞান অর্জন ফরজ।” প্রশ্ন হল, কোন জ্ঞান? দ্বীনি জ্ঞান নাকি দুনিয়ার জ্ঞান।

আমাদের ধর্মগুরুগণ এই জ্ঞানকে দুইভাগ করেছেন। জাগতিক জ্ঞান ও দ্বীনি জ্ঞানকে আলাদা করেছেন। এখানে প্রশ্ন হল, আসলেই কী এই দুই জ্ঞান আলাদা?
যদি আমি আমার মতামত দেই তাহলে বলবো, দুটি জ্ঞানের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কারণ, দ্বীন বলতে পূর্ণাজ্ঞ জীবন ব্যবস্থাকে বলা হয়েছে। পূর্ণাজ্ঞ জীবন ব্যবস্থার একটি অংশ হল জাগতিক শিক্ষা। পার্থক্য হলে হতে পারে সুশিক্ষা ও কুশিক্ষার মধ্যে। উদাহরণ দেই, তাহলে বুঝতে সহজ হবে।

এই ধরুন, (তাদের মতে) সাধারণ জাগতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে একজন মেয়ে ডাক্তার হল। আবার ধর্মগুরুদের স্ত্রীর যাবতীয় চিকিৎসার জন্য সেই মহিলা ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হন তারা। তাহলে কেনো জাগতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া মহিলার কাছে গেলেন তিনি?

পবিত্র কুরআনে যদি পদার্থ, রসায়ন, জীব, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দর্শন, আইন হতে শুরু করে সকল বিষয় উল্লেখ থাকে, তাহলে সেই শিক্ষাকে আমরা কেনো জাগতিক শিক্ষা বলে আলাদা করে ফেলছি? বিষয়টি হল, যে ব্যক্তি যে বিষয় নিয়েই পড়ুক না কেনো, সে ধর্মীয় বিধিবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল কি না এবং তা পালন করছে কি না, তা নিয়ে কাজ করবেন আমাদের ধর্মীয় গুরুগণ। উপরের আয়াত দ্বারা আল্লাহ তাআলা এটাই নিশ্চিত করতে চেয়েছেন। আপনি যদি ইবনে সিনার কথা বলেন, মুসা আল খারিজমি, জাবির ইবনে হাইয়্যান, ওমর খৈয়ামের কথা বলেন তাহলে দেখবেন জ্ঞান চর্চায় তারা কতকিছু গবেষণা করেছেন এবং কত কিছু আবিষ্কার করেছেন। আবার ধর্মীয় বিধিবিধান পালনে তাদের চেয়ে ভাল মুসলিমও খুব কম পাওয়া যাবে। আমরা বর্তমানে এই আধুনিক যুগে কি তা করতে পারছি? পারলেও আমাদের ধর্মীয় গুরুগণের ভূমিকা সেখানে কতটুকু? আমরা যদি আমাদের সন্তানদের দ্বীনি (সকল সুশিক্ষা) শিক্ষা দিতে পারি তাহলে, ডাক্তারগণ অমানবিক হবেন না, ইঞ্জিনিয়ার ঘুষ খেয়ে খারাপ মানের কাজ করবেনা, সরকারি অফিসে ঘুষ ও দুর্নীতি থাকবে না, সবাই মানবীয় গুণাবলীর অধিকারী হবেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় থাকবে, সকলের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে, দেশপ্রেম জাগ্রত হবে, হিংসা মুছে যাবে।

সবচেয়ে বড় বিষয় হল, মুসলিমরা বিজ্ঞানী ও মনীষী হবে, নতুন নতুন গবেষণা করবে, তাদের উদ্ভাবণ জনকল্যাণে কাজ করবে।

আসুন ধর্মটাকে জানি। আমাদের ধর্ম শুধু তাসবিহ পড়ে সওয়াব অর্জনের জন্য আসেনি, বরং এসেছে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য। উগ্রবাদ, জঙ্গীবাদ বা কট্টর ডানপন্থী বলে নিজেকে দাবী করলে আপনি ইসলামের কেউ নন। বরং আপনি আল্লাহ্ ও তার রাসূল (সাঃ) এর শত্রু। জিহাদ করলে নিজের নফস এর সাথে করুন। মানুষকে হত্যা করে নয়। জেনে রাখুন, ইসলামের সবচেয়ে বড় জয় হল মক্কা বিজয়, যেখানে কোনো রক্তপাত হয়নি।

#জঙ্গীবাদ_নিপাত_যাক
#মানবতা_মুক্তিপাক
#সুশিক্ষার_জয়_হোক
#জ্ঞানী_হোক_সকল_লোক

Author
  • leave a comment

    Your email address will not be published. Required fields are marked *