অলস বালক

May 24, 2018
456 Views

একদা এক অলস বালক ছিল যে কাজকে ভয় পেত। সে সারাদিন শুধু খেত আর ঘুমাত। তার এমনই অবস্থা যে সে খাওয়াটা পর্যন্ত বিছানায় করত। সারাদিন ঘুমিয়ে কাটানোর ফলে বন্ধুদের সাথে খেলতে যেতে পারতোনা। যার ফলে সকলে তাকে “অলস বালক” হিসেবেই জানত। অলস বালকের মা যখনই খাবার দিত তখনই ছেলেকে বলতেন যে, তুমি কাজ না করলে মৃত্যুর পর গরু হয়ে যাবে। উত্তরে অলস বালক বলল, “তাও ভালো গরু হলে যেখানে সেখানে ঘুমানো যাবে”।

একদিন বালকের মা খুব অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং ছেলের কাছে পানি চাইলেন। কিন্তু অলস বালক তার মাকে পানি দিল না । মা কষ্ট পেয়ে ছেলেকে অনেক বকলেন। অলস বালক মায়ের উপর বিরক্ত হয়ে বাড়ী ছেড়ে চলে গেল, যাতে আর মায়ের বকাঝকা শুনতে না হয়। হাটতে হাটতে পথে এক বৃদ্ধের সাথে দেখা হল। বৃদ্ধ অলস বালককে জিজ্ঞেস করল, কাজ ভালো লাগে না?

অলস বালক লক্ষ করল বৃদ্ধের হাতে একটি অদ্ভুত মুখোশ। অলস বালক বৃদ্ধের পাশ কেটে যাওয়ার সময় বৃদ্ধ বললেন এই মুখোশটা পরলে সে গরু হতে পারবে, যা অলস বালক হতে চেয়েছিল। গরু হলে সে যেখানে খুশি সেখানে শুয়ে থাকতে পারবে, ঘাস খেতে পারবে, কেউ তাকে বিরক্ত করবেনা, কাজও করতে বলবে না ।অলস বালক খুব উৎসাহ বোধ করল। বলল, আমাকে কোন কাজ করতে হবেনা? এই ভেবে আনন্দিত হল এবং বুড়োর কাছে থেকে মুখোশটি ছিনিয়ে নিলো।

যখনই অলস বালক মুখোশটি পরল সাথে সাথে সেটি তাঁর মুখে আটকে গেল। অলস বালক যতই বের করতে চায় ততই তা তার চামড়ার সাথে আটকাতে থাকল। অলস বালক যখন চিৎকার করে বুড়োকে বলতে গেল মুখোশটি সরিয়ে নেয়ার জন্য তখনই শুনতে পেল “মুহ” শব্দ এবং সে একটি গরুতে পরিণত হল। বুড়ো তাকে নড়াচড়ার সুযোগ না দিয়ে বেধে ফেললেন এবং কোন কিছু না বলতে দিয়ে “হুস হুস” শব্দ করতে লাগলেন। বুড়ো এও বললেন যে কথা বলার চেষ্টা করলে চাবুক দিয়ে পেটাবেন।

তারপর গরুর মত দেখতে অলস বালককে নিয়ে বুড়ো বিক্রির জন্য হাটে গেলেন। একজন কৃষক তাকে কিনে নিলেন। বুড়ো কৃষকে বললেন সে যেন গরুকে কোনভাবেই শালগম খেতে না দেয়, কারণ তাতে গরু মারা যেতে পারে। এমনকি তাকে শালগম দেখানোও যাবেনা। প্রয়োজনে তাকে চাবুক দিয়ে পেটানো লাগতে পারে কারণ সে খুবই অলস।

কৃষক এই ভেবে খুশি যে যাক একে দিয়ে যত খুশি তত কাজ করিয়ে নেয়া যাবে। যা ভাবা তাই কাজ। অলস বালক বলল সে গরু নয় মানুষ, কিন্তু কৃষক বালকের কথায় কোন কান না দিয়ে বেশী বেশী কাজ করাতে লাগলেন। বেশী কথা বলাতে কয়েক ঘা চাবুক মারলেন। জীবনে এই প্রথম কৃষকের পিটুনি খেয়ে সারাদিন মাঠে কাজ করতে হল এবং কাজ শেষে এক পা নাড়ানোর ক্ষমতা ছিলনা। ভাবল কৃষকের মার থেকে রক্ষা পেতে মাঠেই ফিরে যেতে হবে। আরও ভাবল, মা কেমন আছে। আবার মানুষ হওয়ার সুযোগ পেলে অনেক পরিশ্রম করতে পারতাম ইত্যাদি ইত্যাদি।

অলস বালক ভাবল মায়ের কথা মত চললে তার এই অবস্থা হত না। সে ভাবল এরকম মার খেতে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো। সে বুড়োর কাছে শুনেছিল যে শালগম খেলে সে মারা যাবে। মাঠ থেকে ফেরার পথে শালগম ভর্তি একটি গাড়ী দেখতে পেল। কৃষকের মার উপেক্ষা করে সে শালগমের গাড়িতে লাফ দিয়ে শালগম মুখে দিল। শালগম চিবোতে চিবোতে মনে মনে মায়ের কাছে দুঃখ প্রকাশ করল। মুখ ভর্তি শালগম যখন খাচ্ছিল, তখন সে তাঁর মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেল এবং খাট থেকে পড়ে গেল।

বুঝতে পারল সে স্বপ্ন দেখছিল এবং তার চোখে ছিল কান্নার পানি।

এ এক দারুণ মুক্তি! এর পর থেকে বালকটি গ্রামের সবচেয়ে পরিশ্রমী বালকে পরিণত হল।

Author
Bangladesh Information

Bangladesh Information

"Bangladesh Information" is working on the goal of promoting Bangladesh in the world. Let's fulfill Bangladesh Information's goal, you can also raise the country with the help of the Bangladesh Information.

  • leave a comment

    Your email address will not be published. Required fields are marked *