বিনিময়……! রক্তের বিনিময়……! ব্লাড এক্সচেঞ্জ… !

Jan 04, 2018
1268 Views

বিনিময় ! রক্তের বিনিময় ! আপনার রোগির জন্য রক্ত নিলে বিনিময়ে আপনাকেও রক্ত অন্য রোগিকে দিতে হবে।

আদি কাল থেকেই বিনিময় প্রথা চলে আসছে। আগে পন্যের সাথে পন্যের বিনিময় হত এখন বিনিময়ের মাধ্যম হিসাবে অর্থ ব্যবহারিত হচ্ছে। কিন্তু রক্তদানে আবার বিনিময়, এ কেমন কথা!

ব্লাড এক্সচেঞ্জের উদ্দেশ্য রোগির লোকদের মাঝ থেকে নিয়মিত রক্তদাতা বের করে নিয়ে আসা।

আমাদের মাঝে অনেক সাহসী আছে যারা কোন কিছুকেই ভয় পায়না কিন্তু সুই দেখলে খবর হয়ে যায়। ভয়, সচেতনতার অভাব, পারিবারিক শিক্ষা ইত্যাদি কারনে অনেকেই রক্তদান করতে ভয় করে।

আমাদের এখনও বছরে প্রায় ৯ লক্ষ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন কিন্তু রক্ত তো আর কৃত্রিম উপায়ে পাওয়া যায়না। “দেহ থেকে দেহ বয়ে ভালবাসার দান”। তাই রক্তের এ চাহিদা পূরনে আমাদের বেশি বেশি রক্তদাতার প্রয়োজন।

রোগির লোকরা যখন রক্তের জন্য রিকুয়েস্ট করে তখন তাদের সাথে কথা বলে দেখা যায় সুইয়ের ভয়, অসচেতনতার কারনে তারা অনেকেই নিজের রোগিকেই রক্ত দিচ্ছে না। আবার অনেকে পরে দিতে চায় কিন্তু পরে যে দিনই তার গ্রুপের রক্তের প্রয়োজন সেদিনই তার সমস্যার অভাব থাকে না। তাই তাদের রোগি যখন হাসপাতালে সেই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে রোগির লোককে রক্তদানে (যে আগে কোন দিন দেয়নি) বাধ্য করার জন্যই এক্সচেঞ্জ। বলতে গেলে “নিজে ভাল কাজ করব অন্যকে ভাল কাজে বাধ্য করব।”

তবে ব্লাড এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় খেয়াল করা উচিত কিন্ত আমরা তা করি না, যেমন ধরুনঃ
১। যখন একজন ডোনার রিকুয়েস্ট করে তার পরিচিত কোন রোগির ব্লাড লাগবে।
২। যখন আপনার আমার সহযোদ্ধা ভাইয়ের ব্লাডের রিকুয়েস্ট আসে।

যে ডোনার তার কাছে কেন এক্সচেঞ্জ নিতে হবে? সে তো রেগুলার ডোনার। আর যে ভলেন্টিয়ার তার কাছে তো আপনাকেও কোন না কোন দিন ব্লাডের জন্য সাহায্য চাওয়া লাগতে পারে। তাকে বলুন রোগির লোক যদি রেগুলার ডোনার না হয় তাহলে তাদের কাছে থেকে যেন এক্সচেঞ্জ ডোনার নেয়।

এছাড়াও আর্জেন্ট কেস যেমন এক্সিডেন্ট এর রোগি বা ডেলিভারি রোগির ব্লিডিং হইতেছে আর আপনি এক্সচেঞ্জ ছাড়া ব্লাড দিবেন না ব্যাপার টা হাস্যকর হয়ে যায় না কি।

আরও কিছু বিষয় থাকে যেমন,
১। রোগি বাহিরের জেলার কি না
২। উপযুক্ত ডোনার আছে কি না
৩। রোগিকে একা রেখে যেতে পারবে কি না, সাথে লোক ২/১ জন থাকলে পারবে না
৪। রোগির সাথের লোক ফিট কি না
ইত্যাদি বিষয় গুলো জেনেই এক্সচেঞ্জ চাওয়া উচিত।

আমিও এক্সচেঞ্জ চাই, যেন রোগির লোকদের মাঝ থেকে রেগুলার ডোনার বের করে আনতে পারি।

আপনার কাছে রিকুয়েস্ট আসলে ঠান্ডা মাথায় তাদের বুঝিয়ে বলুন, কারন রোগির লোক রোগিরকে নিয়ে চিন্তিত থাকে, তাই শান্ত ভাবে বুঝিয়ে বলুন_
রোগি কই থেকে আসেছে,
সাথে কয়জন আছে,
তাদের সাথে ব্লাড গ্রুপ ম্যাচিং করছে কি না,
গ্রুপিং না জানলে করতে বলেন,
রেজাল্ট জানাতে বলেন,
একই গ্রুপের না থাকলে সাথে যারা আছে তাদের মাঝে কোন গ্রুপ দিতে পারবে, যে গ্রুপ দান করতে পারবে তাদের বলেন সেই হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে ইনফরম করতে যেন অন্য কোন রোগির লোকের সাথে এক্সচেঞ্জ করতে পারে,
পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়ার্ড গিয়ে গিয়ে খুঁজাখুঁজি করা।

শেষে বলুন আপনি না পাইলে তারপর যেন আপনাকে নক করে, আগের তাদের খুঁজতে দিন, এতে রোগির লোক রক্তের চাহিদা বুঝবে, সচেতন হবে, তাদের মাঝে থেকেই রেগুলার ডোনার বের হয়ে আসবে ইন-শাহ-আল্লাহ।

Author
Md Rakib Hossain

Md Rakib Hossain

Md. Rakib Hossain

  • leave a comment

    Your email address will not be published. Required fields are marked *