দালাল এবং রক্ত

Oct 25, 2017
1157 Views

ঢাকা মেডিক্যাল এর ব্লাড ব্যাংকের সামনে একটি মানুষ এর সন্ধানী দুটি চোঁখ কিছু একটা খুঁজে চলছে বেশ কিছু সময় থেকে। আসলে কি খুঁজে চলছে তার চোঁখ দেখে বুঝার উপায় নাই কারণ চোঁখে কালো একটি সানগ্লাস পড়া মুখে খুঁচা খুঁচা দাঁড়ি চুল গুলা এলোমেলো বুঝাই যাচ্ছে লোকটা নিয়মিত দাঁড়ি সেইভ করে না। পরনের টিশার্ট টাও ময়লা মনে হয় অনেক দিন পানির নজর দেখেনাই। লোকটার চলা ফেরায় তুহিন এক অদ্ভুত রহস্য খুঁজে পাচ্ছে। যত সময় যাচ্ছে লোকটার ঘুর ঘুর বেড়ে যায় ব্লাড ব্যাংক এর আশেপাশে। তুহিন প্রায় ঘন্টা দুই এর বেশি সময় থেকে লক্ষ করে দেখলো যে লোকটা ব্লাড ব্যাংকের প্রবেশ গেট ও যেখানে রোগীর আত্মিয় রা যেখানে দাঁড়িয়ে আছে সেখানেই বেশি ঘুর ঘুর করছে। লোকটাকে যতো বেশি সময় ধরে দেখছে তুহিনের মনে লোকাটা কে নিয়ে নানানরকম এর প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু আপাতত লোকটাকে নিয়ে তুহিনের ভাবতে ইচ্ছা করছে না তাই সে অন্য দিকে নিজের মন কে নিয়ে যেতে চাইলো কিন্তু তুহিনের চোঁখটা না চাইতেই লোকটার দিকে চলে যাচ্ছে। একটা ব্যাপার সে খুব মনযোগ দিয়ে খেয়াল করে দেখেছে ওই লোকটা প্রায় পাঁচ মিনিট এর জন্য ব্লাড ব্যাংক থেকে বাহিরে যায় আর বাহিরে যাওয়ার আগে নিজের মোবাইল ফোনের সিম কার্ড টি বদলিয়ে অন্য একটি সিম ঢুকিয়ে নেয়। এই দুই ঘন্টা সময়ে দুইবার দেখেছে তুহিন লোকটাকে সিম পাল্টাতে। এই ব্যাপার টা বেশি করে ভাবাতে লাগলো তুহিন কে কিন্তু কোন সঠিক উত্তর পাচ্ছে না নিজের ভিতর থেকে একবার ভেবেছিলো লোকটাকে জিজ্ঞাস করবে পরক্ষনে মনে হলো এই কাজ করা টা ঠিক হবে না তাই বসে দেখি না কি করে লোকটা। আপাতত তুহিনের কাজ একটাই রক্তের ক্রস ম্যাচিং স্কেনিং রিপোর্ট আসলে ব্লাড টা নিয়ে যাবে তার বোনের জন্য বার্ণ ইউনিটে। তুহিনের সাত বছর বয়সী বোন আগুনে পুড়ে যাওয়ায় ওর চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল এর বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করায়। তুহিন যখন ব্লাড ব্যাংকে আসে প্রথম দিন সেইদিন ওই লোক টিকে দেখেছিলো একজন মহিলার সাথে কথা বলতে সেইদিনের পরেও তুহিন দেখেছে লোকটা প্রায় সময় বার্ণ ইউনিটে ও যাতায়াত করতে। মহিলা টির সাথে প্রথম যেইদিন কথা বলতে দেখেছিলো সেইদিন পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়ে তাদের কথা থেকে এটা বুঝতে পারে মহিলাটির বাচ্চার জন্য রক্তের প্রয়োজন এবং ওই লোক রক্ত জোগাড় করে দেয়ার চেষ্টা করবে বলে বলতে শুনেছে। লোকটার কথা থেকে তুহিন বুঝতে পারে লোকটা ব্লাড ব্যাংক এর কেউ হবে হয়তো কারণ ওই সময়ে সাদা এ্যাপ্রোন পড়ে ছিল লোকটি। আজ যখন লোকটিকে দেখে কেমন একটা রহস্যময় রহস্যময় লাগছিলো তুহিনের কাছে লোকটাকে। তুহিনের মনে এখন বেশি কিছু প্রশ্ন কিন্তু সেগুলার উত্তর আপাতত মিলাতে পারছে না কারণ এখনি থাকে ব্লাড নিয়ে যেতে হবে।।।

চলবে……

Author
Muhammad Munna

পিচ্চি মুন্না

Nothing special only picchi is real..... :p

  • leave a comment

    Your email address will not be published. Required fields are marked *