সুইসাইড নোট- ০১

By:
Oct 25, 2017
446 Views

রুপনের শারীরিক অবস্থা এখন একদমেই অনুকূলে নয়, এ বছরের জানুয়ারি মাসের ২৭ তারিখ অফিসে কাজে থাকাকালীন সময়েই হঠাৎ স্ট্রক করে। শরীরের পুরো বাঁ পাশটা অকেজো অনেকটাই, বয়স কেবল ৩০ পেরিয়েছে। চাকুরী করতো দেশীয় মোবাইল অপারেটর টেলিটক কোম্পানীতে, চাকুরী বয়স যখন এক বছর ছয় মাস তখনই রুপনের এই দূর্ঘটনা ঘটে। ২০১৬ সালের ২৮শে ডিসেম্বরে বিয়ে হবার কথা ছিলো রুপনের, সংসার কপালে নাই রুপনের। ২৪ শে ডিসেম্বর মারা যান রুপনের একমাত্র অভিভাবক বড়ভাই রাজ্জাক, ভাইয়ের মৃত্যুতে সাহস হয় নাই রুপনের বিয়ের পিড়িতে বসার। ৬ বছর বয়সী ছোট মেয়ে ভাবীকে কিভাবে রাখবে!! বাবা জন্মের আগেই ওপারে চলে গেছে, মাও রুপনকে চার বছর ভালবেসে ছুটি নিয়ে বাবার কাছে চলে গিয়েছে। একমাত্র অভিভাবক ভাইকে হারিয়ে দিশেহারা রুপন! ভাবী, ছোট বাচ্চাটাকে কীভাবে সামলাবে? হঠাৎ, এসব চিন্তায় খুব বেশী স্মোকিং শুরু করে রুপন। আর তখনই ধেয়ে আসে স্ট্রক ২৭ শে জানুয়ারীর। বাবা-মা মারা যাওয়ার পর দুই ভাই অনেক কষ্টে বড় হয়েছে, পরিবার বলতে দুভাইই ছিলো। রুপনের চিকিৎসার কিছুটা ভার গ্রহণ করেছিলো রুপনের কর্মরত অফিস কিন্তু মাত্র ২১ দিনের জন্য। ২১ দিন পর তার গ্রামের ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয় রুপনকে, গ্রামে এসে একা কি করবে রুপন ! চলতে পারে না সে। অনেক আত্নীয়ের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে, কেউ আসেনি এই দূর্দিনে। উন্নত চিকিৎসা হলে রুপন ভালো হবে, আর আট-দশজন মানুষের মতোন চলতে পারবে। গ্রামে বাড়ি ভিটাসহ ১২ শতাংশ জমি আছে রুপনের। নিলামে তুলেছে সেটাও, বিক্রি করে উন্নত চিকিৎসা করে বেঁচে থাকতে চায় সে। বরাবরই উপরঅলা রুপনের বামেই ছিলেন, চাকরীটা আর তিন মাস পেরুলেই স্থায়ী হয়ে যেত সে সেই কোম্পানীর, আজকে তার শেষ সম্বল বাড়িভিটা টুকুও বেঁচতে হতো নাহ্। গত এক মাস হয়েছে রুপনের হাতে আর কোন হাতে আর কোনো টাকা নাই। এতোদিনের চিকিৎসায় সব শেষ। খুব চেষ্টা করছে জমিটা বিক্রি করার। আন্তীয়রাই দাম হাকিয়েছে তাও আধামাগনা দামে, জমির শতাংশ যেখানে ৩০ হাজারের উপরে, বিপরীতে ওর আত্নীয়রা সর্ব্বোচ্চ ১৫ হাজার পর্যন্ত এগুচ্ছে। দিশেহারা রুপন যেটুকু হাটতে পারে সেভাবে সে ছুটে চলেছে সমাজের বিত্তবানদের পিছু যদি তাদের সহযোগিতায় সম্ভব হয় তার সব কিছু গুছিয়ে আনতে। এখন, সে দুর সম্পর্করের এক খালার বাসায় উঠেছে, কেউ তাকে দেখেনি নিকট আত্নীয় মাঝে, গ্রামের কিছু মানুষের সহযোগিতায় চেয়ারম্যানের কাছে জমিটা বিক্রিয় দ্বায় দিয়েছে, যেভাবেই হোক আগামী এক মাসের মধ্যে উন্নত চিকিৎসা করাতে হবে, অনেক টাকার দরকার। এখন, রুপন প্রতিটি মূহূর্ত যুদ্ধ করে নিজের সাথে। বাঁচতে চায় সে, বহুবার চেষ্টা করেও ফিরে এসেছে সুইসাইড নামক ব্যাধির কোল থেকে। একদিন সিলিং ফ্যানে রশি বেঁধেছে, রশিতে গলা ঢুকিয়েও নিজেকে ফিরিয়ে নিয়েছে সে। সে জানে একজন মানুষের মৃত্যু কতটা বিঘ্ন ঘটায় সমাজ কিংবা স্বজনদের কাছে, সে কখনোই চায় না একটা সুইসাইড যোগ্য পৃথিবী হোক। আসুন সবাই রুপনদের পাশে দাঁড়াই ।

Author
  • leave a comment

    Your email address will not be published. Required fields are marked *