পিছুটান

Oct 21, 2017
1215 Views

রাত প্রায় শেষের দিকে আসিফের মনে একটুও শান্তি নাই। ঘুম আসলে হয়তো একটু শান্তি পেতো কিন্তু সেটাও হচ্ছে না অনেক চেষ্টা করে ঘুম আসছে না। সেই রাত দশ টা থেকে এখনো নিজের সাথে যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে শেষ অব্ধি ওঠা দাঁড়ায় আসিফ। নাহ! আর এভাবে নয় একবার নিজের ভুলে একটি জীবন চোঁখের সামনেই হারিয়ে যেতে দেখেছি নতুন করে আর কাউকে আপন জনের লাশ নিয়ে কাঁদতে হবে না। বালিশের পাশ থেকে মোবাইল টা নিয়ে আসিফ তার বোন কে ম্যাসেজ দিয়ে দূর্ত বেরিয়ে পড়ে রাস্তায়। আশেপাশে রিক্সা না পেয়ে গলির মোড়ের দিকে পা চালায়। আপন মনে নিজের সাথে কথা বলছে আসিফ নাহ! দেরী করাটা উচিৎ হয় নি আল্লাহ জানে হয়তো এতো সময়ে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। হয়তো আপন জনের লাশের পাশে কোন ছোট মেয়ে বসে কাঁদছে আর না হয় একমাত্র আপন জন কে হারিয়ে স্তব্ধ হয়ে বসে আছে পাথরের মূর্তী হয়ে। নাহ আর ভাবতে পারছে না আসিফ। যত তাড়াতাড়ি পারে পা চালিয়ে যেতে হবে এতো রাতে রিক্সা বা গাড়ি পাওয়ার প্রশ্ন ওঠে না তাই অপেক্ষা না করে পা চালায়। প্রায় ২ঘন্টা পায়ে হেটে আসিফ যখন পৌছায় তখন প্রায় ভোর রাত। ঘড়ি দেখে নেয় আসিফ ফজরের আজান অনেক আগেই দিয়েছে চিন্তায় খেয়াল করেনি সে। মোবাইল বের করে কল হিস্ট্রি থেকে রাত ১০ টায় যেই নাম্বার থেকে কল আসে সেটায় কল দেয়।

-হ্যালো! আমি চলে আসছি। বেশি দেরী করে ফেলছি তাই ভেরী স্যরি! ।

–না না ঠিক আছে। আপনি বসুন আমি আসছি এক্ষুনি।

কল কেটে দিয়ে আসিফ ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে রোগীর কথা বলে প্রাথমিক পরিক্ষা গুলা করিয়ে নেয়। আসিফের পাশে একটি ১৬/১৭ বছরের ছেলে দাঁড়িয়ে ভাবছে একটা মানুষ এর মনের পরিবর্তন কত সহজেই না হয়। মানুষ বদলাতে পারে সহজেই। ছেলেটি ভাবে আসিফের বলা কথা গুলা..

-আস্লামালিকুম! আসিফ ভাইয়া বলছেন!?

–হ্যা বলছি, কে!?

-ভাইয়া আমার আম্মু হাসপাতালে রক্তের প্রয়োজন আপনার গ্রুপের সাথে মিলে যাওয়ায় আপনাকে কল দিয়েছি ভাইয়া আমাকে সাহায্য করবেন প্লিজ!?

— আপনাদের কি আর কোন কাজ নেই নাকি কিছু দিন পর পর বিরক্ত করেন যত্তসব আবাল।
আসিফ কল কেটে দেয় রাগে। ছেলেটি এক অজানা ভয়ে কাঁদতে শুরু করে নিজের মনে প্রশ্ন করে মা কি তাহলে মাকে ছেড়ে চলে যাবে!? নাহ মানুষ এর মন বদলায় আসিফ তার নিজের শরীরের রক্ত দিয়ে এক মায়ের জীবন বাঁচাতে আসছে। রক্তদানের সময়ে আসিফ এক নতুন জীবন পাওয়া পরিবারের কথা ভাবে। এক অজানা শান্তি আর আনন্দ আসিফের মনে শিহরণ জাগায়। রক্তদান শেষ আসিফ ছেলেটির মাথায় হাত বুলিয়ে বেরিয়ে পড়ে আবার সেই রাস্তায় ঘরে ফেরার জন্য আজ মনে নতুন আনন্দ নতুন এক ভালোবাসা নিয়ে ফিরছে আসিফ।
আসিফের বোন ম্যাসেজ দেখে আনন্দে দুচোখ দিয়ে পানি চলে আসে। ম্যাসেজ টি আবার পড়ে সে –
“আপু সময়ের টানে আমরা ভুলেই যাচ্ছিলাম আমাদের দুঃখের কথা গুলা কিন্তু আজ হঠাৎ একটি ফোন কলে মনে করিয়ে দিলো সেই সময়ের কথা হাসপাতালে কাটানো দিনের কথা গুলা খুব কষ্ট দিচ্ছে আপু। আমাদের মাকে বাঁচাতে পারিনি রক্তের অভাবে কিন্তু আজ এক নতুন মা কে হারাতে পারবো না তাই হাসপালাত যাচ্ছি রক্তদান করতে”।।

Author
Muhammad Munna

পিচ্চি মুন্না

Nothing special only picchi is real..... :p

  • leave a comment

    Your email address will not be published. Required fields are marked *