একদিনে পাহাড় এবং ঝর্ণা

Nov 20, 2019
159 Views

সীতাকুণ্ড অপরূপ প্রাকৃতিক সৌর্ন্দয্যের লীলাভূমি।আর যার কারণেই বার বার ছুটে আসি তার রূপ দেখতে। এসেছিলাম #গৃহত্যাগী নামের ভ্রমণ গ্রুপের সাথে। চন্দ্রনাথ পাহাড় চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার সীতাকুণ্ড বাজারের পাশোই অবস্থিত চন্দ্রনাথ পাহাড়। সীতাকুণ্ডের পূর্বদিকে চন্দ্রনাথ পাহাড় আর পশ্চিমে সুবিশাল সমুদ্র। সীতাকুন্ডের সর্বোচ্চ পাহাড় হচ্ছে চন্দ্রনাথ পাহাড় এবং চন্দ্রনাথ পাহাড়ের উপরে অবস্থিত রয়েছে চন্দ্রনাথ মন্দির। সীতাকুন্ড হিন্দুদের বড় তীর্থস্থান। এখানে অনেক মন্দির রয়েছে।

সিএনজি নিয়ে সরাসরি চন্দ্রনাথের গেটে গিয়ে নামবেন। আসার পথে হিন্দুদের কিছু ধর্মীয় স্থাপনাও আপনার চোখে পড়বে। এখানে কিছু নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠীর মানুষও বসবাস করে, যারা ত্রিপুরা নামে পরিচিত এবং এখানে তাদের কিছু গ্রামও আছে।গেটের সামনের দোকান থেকে ২০ টাকা করে বাঁশের লাঠি নিয়ে পাহাড় ওঠা শুরু করবেন । (পাহাড় থেকে নেমে বাঁশের লাটি ফিরিয়ে দিলে আপনাকে ১০ টাকা ফিরত দিবে) এ লাঠি পাহাড়ে উঠা এবং নামার সময় অনেক কাজে আসবে।

কিছু দূর গিয়ে একটা ঝর্ণা দেখতে পাবেন। এস্থান থেকেই পাহাড়ে উঠার পথ দু ভাগে বিভক্ত হয়েগেছে, ডানদিকের দিকের রাস্তা প্রায় পুরোটাই সিঁ‌ড়ি আর বামদিকের রাস্তাটি পুরোটাই পাহাড়ী পথ, কিছু ভাঙ্গা সিঁ‌ড়ি আছে। বাম দিকের পথ দিয়ে উঠা সহজ আর ডানদিকের সিঁ‌ড়ির পথ দিয়ে নামা সহজ, তবে আপনি আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী পথ ব্যবহার করতে পারবেন।

আমরা যখন উঠছিলাম তখন সকাল ৯ টা। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ঠান্ডা বাতাসে অন্য রকম এক অনুভূতি হচ্ছিল। আমরা যাওয়ার আগে টানা দুদিন বৃষ্টি হওয়ার কারণে ধুয়ে যাওয়া গাছের পাতা পরিষ্কার, সতেজ পাতা চোখের বেশ আরাম দিয়েছিল। মনে হয়েছে পাহাড়টা যেন পূর্ণ যৌবনা রুপবতী। এই বৃষ্টির সময় পাহাড়ে ওঠা বিপদজক হলেও চারপাশের পরিবেশটা বেশ ভালো লাগছিল। চন্দ্রনাথে উঠতে পাহাড়ি রাস্তায় এক ঘণ্টা হাঁটার পর চোখে পড়বে একটি মন্দির। আমি মনে মনে ভাব ছিলাম এটিই বোধ হয় চন্দ্রনাথের মন্দির এবং সর্বোচ্চ চূড়া। কিন্তু না পরে আমাদের এক ভাইয়ের কাছে জানতে পারলাম আরও আধা ঘণ্টাখানেক হাঁটতে হবে চূড়ায় উঠতে হলে। আর এরপরেই দেখা মিলবে চন্দ্রনাথ মন্দিরের। আমরা যথারীতি আরও ২০ মিনিট হাঁটার পর চন্দ্রনাথ মন্দিরের দেখা পাই। এত দূর পথ পাড়ি দিয়ে চূড়ায় উঠেই যেন শান্তি আহাঃ।

চন্দ্রনাথ পাহাড়ের মাঝামাঝি দূরত্বে এবং চূড়ায় মন্দিরের কাছে ছোট টং দোকান আছে সেগুলিতে হালকা খাবার এবং পূজা দেয়ার উপকরণ পাওয়া যায়, তবে ভালো হয় উঠার সময় সাথে পর্যাপ্ত পানি ও কিছু শুকনো খাবার সাথে রাখলে।

সীতাকুন্ড ইকোপার্ক

আপনারা পাহাড় থেকে নেমে চলে যাবেন সীতাকুণ্ড বাজারে। বাজার থেকে সিএনজি নিয়ে চলে যাবেন #সীতাকুন্ড_ইকো পার্কে। এখানে রয়েছে সহস্র ধরা এবং সুপ্ত ধারা নামে দুটি অনেক সুন্দর ঝর্ণা। এছাড়া রয়েছে অসংখ্য দূর্লভ প্রজাতির গাছ গাছালি।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা কমলাপুর স্টেডিয়ামের পাশেই স্টার লাইন ( টিটি পাড়া ) কাউন্টারে আপনি ঢাকা টু ফেনীর টিকিট কেটে নিতে পারেন (ভাড়া২৭০ টাকা)। এরপর ফেনী থেকে লোকাল বাসে ওঠে বা সিএনজি নিয়ে সরাসরি চলে যাবেন সীতাকুণ্ড বাজারে। (বাসে ভাড়া ৫০ টাকা সিএনজি আলোচনা করে নিবেন)

এছাড়া ঢাকা থেকে এসি, ননএসি বাস ছাড়ে সায়দাবাদ বাস ষ্টেশন থেকে। আরামদায়ক এবং নির্ভর যোগ্য সার্ভিস গুলো হল এস.আলম, সৌদিয়া, গ্রীনলাইন, সিল্ক লাইন, সোহাগ, বাগদাদ এক্সপ্রেস, ইউনিক প্রভূতি। সবগুলো বাসই সীতাকুণ্ডে থামে।

ট্রেনে কি ভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে ছেড়েঁ আসা দ্রুতগামী ট্রেন “ঢাকা মেইল” সীতাকুণ্ডে থামে, এটি ঢাকা থেকে ছাড়ে রাত ১১টায় এবং সীতাকুণ্ডে পৌঁছে পরদিন সকাল ৬.৩০ থেকে ৭টায়। অন্যান্য আন্তঃ নগর ট্রেন গুলো সরাসরি চট্টগ্রামে চলে যায়।

কোথায় থাকবেন

সীতাকুণ্ডে থাকার জন্য হোটেল সৌদিয়া, সাইমুন আবাসিক সহ সীতাকুণ্ড বাজারে কয়েকটি মাঝারি মানের আবাসিক হোটেল আছে। হোটেল সৌদিয়ায় বুকিং দিতে ফোন করতে পারেন 01991-787979, 01816-518119 নাম্বারে।

খাবেন কোথায়

আপনি ইকোপার্কের গেটে দু তিন টা রেস্টুরেন্ট আছে এগুলোতে খেতে পারেন। আবার সীতাকুণ্ডে সাধারণ মানের হোটেলের মধ্যে সৌদিয়া রেস্টুরেন্ট, আপন রেস্টুরেন্ট এবং আল আমিন উল্লেখ্যযোগ্য। সীতাকুন্ডের অন্যান্য দর্শনীয় স্থান সীতাকুণ্ডে ঘুরে বেড়ানোর জন্যে অনেক জায়গাই আছে। কাছাকাছি হওয়ায় চাইলে দিনে দিনে অনেক গুলো জায়গাই ঘুরে দেখতে পারবেন। এক রাত থেকে দুইদিনের জন্যে ঘুরতে গেলে প্রায় সবগুলো জায়গাই ঘুরে দেখা সম্ভব। আপনার কত সময় আছে, সেই হিসেব করে পরিকল্পনা করে নিতে পারেন কি কি দেখবেন। সীতাকুণ্ডে জনপ্রিয় ভ্রমণ স্পট গুলো হলোঃ

  • গুলিয়াখালি বীচ
  • বাঁশবাড়িয়া বীচ
  • ঝরঝরি ঝর্ণা
  • কুমিরা সন্দ্বীপ
  • ফেরী ঘাট
  • নাপিত্তাছড়া
  • ঝর্ণা কমলদহ ঝর্ণা

আপনারা চাইলে গৃহত্যাগী’র ট্র্যাভেল গ্রুপের সাথে বাংলাদেশ আনাচে কানাচে ভ্রমণ দিতে পারেন।
গৃহত্যাগীর ফেসবুক গ্রুপঃ https://www.facebook.com/groups/Griho…

(এছাড়াও কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করতে পারেন)

Author
Md Muntasir Akthar Sifat

Md Muntasir Akthar sifat

নিজের সম্পর্কে বলার মতো অতো বড় কোনো পরিচয় এখন অব্দি হয়নি তবে এক সময় হেব এটা আমি জানি। তারপরও সাধারন পরিচিতি বলতে যা বুঝায় আমি একজন সাধারন ছেলে। #স্বভাব: আমি খুব জটিল,ভীষণ সহজ এবং আবেগী নিতান্তই সহজ-সরল খোলা মনের মানুষ...আমার অভিধানে কান্না বলে কিছু নেই, তবে কষ্ট পাই খুব সহজে... যে যা দেয় তা ফিরিয়ে দেই। সে যদি হয় ভালোবাসা, তবে ভালোবাসা, অবহেলা হলে অবহেলা, কষ্ট হলে কষ্ট... আমার এ নীতি থেকে আজ পর্যন্ত বিচ্যুত হইনি,হতে চাইও না... আমি অতি ভাল এবং অতি খারাপ দুটোর একটি ও নই। আমি সবর্দা চুপচাপ থাকি।আমি যদি কনো সময় রেগে যাই তাহলে নিজেকে সামলে রাখতে পারি না। '''আমি সবর্দা অন্যায় প্রতিবাদ করার চেষ্টা করি।।।আর আমার কাছে যে যেমন স্বভাব দেখাবে সে আমার কাচে সে রূপ স্বভাব দেখবে।।।আমি কখনো কারো চামচামি করি না এবং কেউ করে তাও ভাল লাগে না।।। '''আমাকে নিয়ে কে কি ভাবে এইসব নিয়েও আমার মাথাব্যাথা নাই। কেউ যদি মনে করে আমি ছেলেটা খারাপ তাহলে খারাপ,কিছু করার নাই । কেউ যদি মনে করে আমি ভালো তাহলেতো ভালই। আমি আমার মতোই থাকি,আমার মতো চলাফেরা করি। মানুষের সামনে নিজেকে আড়াল করে ভালো সাজার কোনো ইচ্ছা নাই । তবে আমাকে নিয়ে কার কেমন ধারণা এটা মোটামুটি আমি জানি । '''যে কোনো কিছু করতে গেলে অনেকের কাছে অনেক কথাইশুনতে হয় । কেউ আশা দেয়,কেউ হতাশ করার চেষ্টা করে । এটাই স্বাভাবিক । কিন্তু দিন শেষে এরা কেউ আমার সাথে থাকে না । দিনশেষে দিনের সব প্রাপ্তি কিংবা অপ্রাপ্তি আমাকেই স্পর্শ করে । তাই আমি কারো কথায় কান দেই না । সব প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি আমার । চিন্তা ভাবনাও আমার । মানুষের কথা কানে নেয়ার কোনো মানে দেখি না ... '''মানুষের বাইরের দিকের চাইতে তার মানসিক দিকটাই আমাকে বেশি আকর্ষণ করে । যখনই একটা মানুষের সাথে পরিচিত হই তখনই জানতে ইচ্ছা করে এই মানুষের মনের মধ্যে কি আছে !!এই মানুষের মানসিক দিকটা কেমন ? সহজ নাকি জটিল ?এই মানুষের মনের মধ্যে কি গভীর কোনো কষ্ট আছে কিংবা হতাশা ??আমার চোখের সামনে যা ঘটে আমি খুব মনোযোগ দিয়ে তা দেখি । আমার চোখের সামনে কেউ একটা কাজ করল,আমি সবসময়ই চিন্তা করি, এই কাজের পেছনে এই মানুষটার মোটিভ কি ?তার মনের মধ্যে কি ছিল এই কাজ করার পেছনে ? আমি অনেক উত্তর পেয়ে যাই ।অনেক সময় অনেক ছোট একটা কাজ অনেক বড় কিছুর দ্বার খুলে দেয় ।আবার অনেক বড় কাজের পেছনে থাকে খুবই ক্ষুদ্র একটা কারণ । যে মানুষের সাথে আমার কোনোদিন কথা হয়নি কিন্তু চোখের সামনে দেখি তার মনের অনেক কথা দূর থেকে বুঝতে পারি । মানুষের মন মারাত্বক রকমের জটিল । এই জটিল জিনিসটার সহজ ব্যবচ্ছেদ আমাকে আকর্ষণ করে। আমি মানুষকে খুব ভালো চিনতে পারি । খুব দ্রুত ভালোভাবে চিনতে পারি ... "'আমি সবচেয়ে যেটা বেশি পছন্দ করি সেটা হলো জেগে জেগে স্বপ্ন দেখতে।বাস্তবে রুপ দিতে পারি আর না পারি,স্বপ্ন দেখতে খুব ভাল লাগে"

  • leave a comment

    Your email address will not be published. Required fields are marked *