আমাদের আলেমগণ যখন ব্যর্থ

Apr 12, 2019
12054 Views

আসলে আমাদের তথাকথিত ধর্মীয় গুরুগণ এতদিন ধর্মকে পুঁজি করে ব্যবসা করেছেন। প্রকৃত পক্ষে এদের মুখোশ উন্মোচিত হতে শুরু করেছে। এজন্য মসজিদ বা মাদরাসা দায়ী নয়। এটা শুধু তাদের আশ্রয়কেন্দ্র। বিজ্ঞানের এই জগতে মানুষ এখন তথাকথিত আলেমের কাছে শেখে না। তারা নিজে স্টাডি করে, গবেষণা করে। তাই একে একে তাদের ধর্মীয় ব্যবসা উঠে যেতে শুরু করেছে। এজন্য ব্যবসার শেষ মুহূর্তে এসে যেনো কিছু মুনাফা করে যেতে পারে, তাই এই কুকর্মগুলো করছে। আর ধর্ষকের কথা যদি বলেন তাহলে বলব, এ আর ১০জন ধর্ষকের মতই সাধারণ। নবী (সাঃ) এর সময়েও ধর্ষক ছিল। তাদের শাস্তি প্রকাশ্যে মৃত্যুদন্ড ছিল। এটা করতে গেলে আবার তথাকথিতরা বলবে, দেশটা সাম্প্রদায়িক হয়ে গেল। বর্বর হয়ে গেল। আবার খুঁজে দেখুন, তারাই বলবে ধর্ষকের ফাঁসি চাই। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য প্রকাশ্যে ফাঁসি দিলে যদি সমস্যার সমাধান হয়, তাতে দোষের কিছু দেখি না। সেটা যদি কোনো ধর্মের নিয়মের সাথে মিলে যায়, যাকনা। ঠিক যেমনটা মাদক ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ঘটছে। ক্রসফায়ার চলছিল, বেশ কিছুদিন মাদক পরিস্থিতি উন্নত হল। তথাকথিত মানবাধিকারের লোকজন যখন তার বিরোধীতা করল, পরিস্থিতি আগের মত দাঁড়িয়ে গেল।

মসজিদ মাদ্রাসা আমাদের বিশ্বাসের জায়গা বলেই তার ছায়াতলে অসাধু ধর্মব্যবসায়ীগণ তার ফায়দা লুটছে। আজ যদি সত্যিকারের ধর্মীয় প্রাকটিস থাকতো, তাহলে এই স্থানগুলোকেও পবিত্র রাখা যেত। যেহেতু আমাদের আলেমগণ একাধিক মতাদর্শে বিভক্ত; যেমন ধরুন- সুন্নি, শিয়া, হানাফি, হাম্বলি, মালেকী, শাফেঈ, আহলে হাদীস, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত, চোরমোনাই, ওলীপুরি, দেওয়ানবাগী, কওমি, আলিয়া সহ অসংখ্য; তখন আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে আমাদের আলেমগণ মূল জায়গা থেকে বিচ্ছিন্ন। ফলে বিপর্যয় আসবেই। তারই প্রকৃত ও প্রকৃষ্ট উদাহরণ এটি।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারীগণ কিন্তু সর্বোচ্চ মর্যাদা নিয়ে সমাজে বসবাস করেন। সুতরাং তাদের এই কৃতকর্ম কিন্তু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান দুটোকেই কলুষিত করছে। আলেমগণ যদি এরকম উদাহরণ প্রদর্শন করেন তাহলে তারা এই প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা রাখেন না এবং তারা আলেম হতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, পরিবার একটি প্রতিষ্ঠান। এই পরিবারের কর্তা যদি ধর্ষক হোন তাহলে এই পরিবারের সাথে কেউ আত্মীয়তা করবে না। সকলে বলবে ফ্যামিলিটা ভাল না। এই পরিবারের কর্তা একজন ধর্ষক। সুতরাং, প্রতিষ্ঠানকে বাঁচাতে এই আলেম সমাজকেই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে হবে। কই এখন পর্যন্ত আলেমগণের কাছ থেকে একটিও বিবৃতি পেলাম না। মানববন্ধন পেলাম না। যেখানে সারা বাংলাদেশ উত্তাল। ঘৃণা প্রদর্শন করেও তো সবচেয়ে নিচু স্তরের ইমান প্রদর্শনের সুযোগ রয়েছে। সেটাও করছেন না। তাহলে সাধারণ মানুষ ধরেই নেবে হুজুরেরা ভাল মানুষ নয়। এরা অপরাধ ও অপরাধীদের মৌন সমর্থন দিচ্ছে। ফলে মসজিদ ও মাদ্রাসা কেন্দ্রিক ধর্মীয় শিক্ষায় কেউ আগ্রহী হবে না। শুধু ওয়াজ মাহফিল করে যদি ধর্মীয় গুণাবলী অর্জন করা যেত, তাহলে বাংলাদেশে অনেক আগেই ইমানদার ব্যক্তিতে ভরে যেত। তা তো হয়নি। কারণ, আমাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আজ ব্যর্থ। মসজিদ আছে শুধু নামাজের জন্য। কিন্তু মসজিদ ভিত্তিক পাঠাগার, পাঠচক্র, গবেষণাধর্মী বৈঠক নেই। যদি থাকতো তাহলে বলুন তো, বাংলাদেশে কতজন আলেম বিজ্ঞানী হয়েছে। একজনও নেই। অথচ ইতিহাস বলে এই মসজিদে বসে কুরআনের গবেষণা করে ইবনে সিনা চিকিৎসা শাস্ত্র তৈরি করেছেন। জাবির ইবনে হাইয়ান গণিতের ফর্মুলা আবিষ্কার করেছেন। এস্ট্রোলজি নিয়ে গবেষণা করেছেন কত মনীষী। তাহলে বুঝুন, কোথায় আছি আমরা?

অনেকেই বলছেন, ব্যক্তির সমস্যা কখনও প্রতিষ্ঠানের ওপর বর্তায় না। এটা একটা মানষিক সমস্যা। আমিও কিছুটা একমত হলেও সম্পূর্ণ নই। প্রশ্ন হল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিয়েও কেনো মানসিক সমস্যার সমাধান হল না, তা কেউ দেখছেন না কেনো? নিশ্চিত করে বলতে পারি, আমাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আল্লাহ ও তার রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর অনুসৃত পথে চলছেনা৷ আমি মসজিদ মাদ্রাসা কে বলছি না খারাপ। বলছি, মসজিদ মাদ্রাসাগুলোকে সত্যিকারের ধর্ম শিক্ষা ও চর্চার জায়গা হিসেবে গড়ে তুলুন। অন্যথায় বিরাট ধ্বংসযোগ্য আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে।

এজন্যই বোধহয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন। তা হল মডেল মসজিদ। যেটাতে আমাদের আলেম সমাজের উপস্থাপন ও ভূমিকার দরকার ছিল তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। অথচ, মসজিদ মাদ্রাসায় না পড়েই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারছেন। এটাই আলেম সমাজের ব্যর্থতা।

Author
  • leave a comment

    Your email address will not be published. Required fields are marked *